জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পালনের মাঝেই সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন। ৩০ জানুয়ারি (২০২৬) ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট থানা এলাকায় ভয়াবহ এই দুঘর্টনাটি ঘটে। আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কের সিদংছড়ায় লরি ও অটোরিক্সার সংঘর্ষে ৮টি প্রাণ ঝরে যায়। হতাহতরা সবাই ছিলেন অটোরিক্সার যাত্রী।
নিহতরা হলেন ই-রিক্সার চালক কুমারঘাট মহকুমার উত্তর পাবিয়াছড়ার ভাস্কর গোস্বামী (৪৫), লংতরাইভ্যালি মহকুমার মাছলির গরিমিলি চাকমা (৫০), কাঞ্চনা চাকমা (৫৫) ও হরিশংকর দেবতাতা (৫২)।
জানা গেছে, বেলা সোয়া ১১ টা নাগাদ ১৪ চাকার লরির সাথে সংঘর্ষ হয় অটোরিক্সার (হাইস্পিড ই-রিক্সা)। জাতীয় সড়কের একটি কালভার্টের উপর দুর্ঘটনাটি ঘটে। যাত্রবাহী অটোরিক্সাটি কুমারঘাট থেকে পেচারথল যাচ্ছিল। লরিটি পেচারথল থেকে কুমারঘাটমুখী ছিল। লরিটি সড়কের উলটো সাইটে এসে অটোরিক্সাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। অটোরিক্সা কালভার্টের উপর দুমড়ে মুচড়ে যায়। আশপাশের মানুষ সংঘর্ষের বিকট শব্দ পেয়ে ছুটে যান। খবর দেওয়া হয় দমকল বাহিনীকে। ততক্ষণে লরি চালক পালিয়ে যায়। উদ্ধার কাজে হাত লাগান বহু মানুষ। দমকল বাহিনীর কর্মী ও স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় আহতদের অটোরিক্সা থেকে অনেক কষ্টে চালকসহ ৬ জনকে উদ্ধার করে কুমারঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আহতদের আত্মীয়-পরিজনসহ আরও মানুষ ভিড় করেন হাসপাতালের সামনে। চিকিৎসকরা আহতদের মধ্যে ভাস্কর গোস্বামী ও গরিমিলি চাকমাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্বজনহারাদের আর্তনাদে হাসপাতাল চত্বর ভারী হয়ে উঠে। চিকিৎসক অপর চারজনকে কৈলাসহরে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের রেফার করেছেন। জেলা হাসপাতালে নেয়ার পর কাঞ্চনা চাকমা ও হরিশংকর দেবতাতার মৃত্যু ঘটে। দুই আহতের মধ্যে মাছলি এলাকার ত্রাপতি চাকমা (৪২) বর্তমানে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অপর আহত পেচারথলের মায়ারাণি দেবনাথ (৫৩)-কে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলচর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় কুমারঘাট মহকুমাজোরে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Ohh !!!