রামধনু

খবর - সাহিত্য - জীবনধারা
Subscribe
ভারতের যুব ব্রিগেড ক্রিকেটে আবারও বিশ্বসেরা
বিধ্বংসী বৈভব সূর্যবংশী
বিধ্বংসী মেজাজে বৈভব সূর্যবংশী
ভারতের তরুণরা আবার বিশ্বসেরা। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ইংল্যান্ডকে ফাইন্যালে নাস্তানাবুদ হতে হলো ভারতের কাছে। সেইসাথে ভারতের ঘরে এলো যুব বিশ্বকাপের ষষ্ঠ শিরোপা। আগেই সর্বোচ্চ বার বিশ্বজয়ের রেকর্ড ছিল ভারতের যুব দলের ঝোলায়। এ বার সেই মার্জিনটা আরও বাড়িয়ে নিলেন তরুণরা। শনিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ভারত নির্দিষ্ট ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৪১১ রানের পাহাড় গড়ে। আর বিরাট রানের পাহাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে ৩১১ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ১০০ রানের বড় ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় টিম ইন্ডিয়ার যুব দল। ১৯৯৮ সালে একমাত্র শিরোপা জেতা ইংল্যান্ডের আরেকটি খেতাবের অপেক্ষা আরও বাড়ল। ২০২২ আসরের ফাইন্যালেও ভারতের বিপক্ষে হেরেছিল তারা। অফ স্পিনার কানিস্ক চৌহানের ইয়র্কার লেংথ ডেলিভারিতে ব্যাট পেতে দিলেন ক্যালেব ফ্যালকনার। পয়েন্টে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নিলেন খিলান প্যাটেল। উল্লাসে মেতে উঠল গোটা ভারতীয় দল। অবশ্য একটু থামতে হলো তাদের। ক্যাচ ঠিকভাবে নেওয়া হয়েছে কিনা, পরীক্ষা করে দেখলেন টিভি আম্পায়ার। স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় 'আউট' লেখা ভেসে উঠতেই আবার উদযাপনে মেতে উঠলেন বৈভব, আয়ুশ মাত্রেরা। আজকের এই ফাইন্যালকে একপেশে করে দিতে অন্যতম নায়ক কিন্তু যুব রান মেশিন বৈভব সূর্যবংশী। ২২ গজে তিনি ইংল্যান্ডের বোলারদের উপর তাণ্ডব চালালেন। এমন আগ্রাসী ব্যাটিং যুব বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি। অনেকের মনে পড়তে পারে ১৯৮৩'র বিশ্বকাপ ক্রিকেটে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে কপিল দেবের করা সেই বিখ্যাত ১৭৫ রানের ইনিংসটির কথা। সেদিন কপিল এই রান করেছিলেন ১৩৮ বলে। চার ছিল ১৬টি আর ছক্কা ছিল ছয়টি। আর শনিবার সূর্যবংশী ১৭৫ রান করলেন মাত্র ৮০ বলে। যার মধ্যে ছিল ১৫টি চার ও ১৫টি ছক্কার মার। আজকের ম্যাচটি ছিল বলতে গেলে রান সুনামির। আজ জিম্বাবোয়ের বুলাওয়ে ভারত যেমন ৪১১ রান করলো তেমনি ইংল্যান্ডও ৩১১ রান করে। সব মিলিয়ে রান উঠলো ৭২২। সত্যিই আজ ২২ গজে তরুণরা বোলারদের উপর তাণ্ডবই চালালেন। ২০১৬ সাল থেকে টানা ষষ্ঠ বার ফাইন্যালে উঠেছে টিম ইন্ডিয়া। তবে এই বারের ফাইন্যালে যেন রান-তাণ্ডবের মাঝে রেকর্ডের তাণ্ডবও ধরে রাখল ভারতের ছোটদের টিম। আজ ভারতীয় দল যে রান করলো তা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইন্যালের ২৮ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। শুধু তাই নয় বৈভব সূর্যবংশী কিন্তু নতুন ইতিহাস রচনা করলেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইন্যালে কোন ক্রিকেটার এত রান করতে পারেননি। এদিনের ম্যাচে ৫৫ বলে শতরান করেন বিহারের ১৪ বছর বয়সি বৈভব। যা আরও একটি রেকর্ড। বিশ্বকাপে দ্রুততম শতরানের রেকর্ড রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার উইল মালাজচুকের দখলে। চলতি বিশ্বকাপে জাপানের বিরুদ্ধে তিনি ৫১ বলে শতরান করেছিলেন। শনিবার টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নামে ভারত। দলের ২০ রানের মাথায় সেমি ফাইন্যালে শতরান করা জর্জ বিদায় নেন। দ্রুত উইকেট হারালেও বুঝতে দেননি বৈভব সূর্যবংশী ও আয়ুশ মাত্রে। এ জুটি ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে একেবারে ভোঁতা করে দেন। ইংল্যান্ডের কোন বোলারকে কোন সুযোগ দেননি ভারতের রানমেশিন। এককথায় অবিশ্বাস্য এক ইনিংস। মাত্র ৫৫ বলে শতরান পূর্ণ করে সে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে দ্রুততম শতরান করার রেকর্ড গড়েন। এই ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও ৫টি ছক্কা, স্ট্রাইক রেট ২১৮-এরও বেশি। এর আগে ভারতের দ্রুততম শতরানের রেকর্ডটি ছিল রাজ অঙ্গদ বাওয়ার নামে। তিনি ২০২২ সালে ৬৯ বলে শতরান করেছিলেন। এই ইনিংসের মাধ্যমে বৈভব বিশ্বকাপে দ্বিতীয় দ্রুততম শতরানও হাঁকান, পাকিস্তানের কাসিম আক্রমের ৬৩ বলের রেকর্ড ভেঙে দিলেন তিনি। পাশাপাশি চলতি বিশ্বকাপে এক আসরে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার রেকর্ডও এখন তার দখলে। ৩০টি ছক্কা হাঁকিয়ে সে ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের ১৮ ছক্কার রেকর্ড ছাপিয়ে গেল। বৈভব ছাড়াও ভারতের অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে ৫১ বলে ৫৩ রানের ইনিংসটিও ছিল দারুণ কার্যকর। কারণ একদিকে যখন সূর্যবংশী চার ছক্কা হাঁকাচ্ছেন তখন আয়ুশ উইকেটে থাকলেন। স্ট্রাইক রোটেট করলেন। শেষদিকে উইকেটকিপার অভিজ্ঞান কুণ্ডু করেন ৩১ বলে ৪০ রান। বেদান্ত ত্রিবেদী ও বিহান মলহোত্রা যথাক্রমে ৩২ ও ৩০ রান যোগ করেন। ফলে ভারতীয় দল নির্ধারিত ৫০ ওভারে নয় উইকেট হারিয়ে ৪১১ রান করে। ইংল্যান্ডের হয়ে বাঁহাতি পেসার জেমস মিন্টো ৪৫ রানে ৩ উইকেট নেন। সেবাস্তিয়ান মরগ্যান ও অ্যালেক্স গ্রিন  নেন ২টি করে উইকেট। ৫০ ওভারে ৪১২ রানের বিরাট স্কোর তাড়া করাটা সত্যিই কঠিন বিষয়। রানের চাপেই ইংল্যান্ড শুরুতেই ধাক্কা খায়। ইংল্যান্ডের ইনিংসের পঞ্চম ওভারে দলের ১৯ রানের মাথায় তারা প্রথম উইকেট হারায়। আরএস অম্বরীশ বোল্ড করেন জোসেফ মরিসকে (১৭)। দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে ওপেনার বেন ডাওকিনস এবং তিনে ব্যাট করতে নামা বেন মায়েস দলের হাল ধরেন। ডাওকিনস-মায়েস জুটি ভেঙে দেন খিলান প্যাটেল। ৯৩ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ২৮ বল ৪৭ করে ফেরেন বেন মায়েস। ডাওকিনস আবার ৫৬ বলে ৬৬ করে আউট হন। এর পর ব্রিটিশ অধিনায়ক থমাস রিও ১৮ বলে ৩১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তবে তিনি সাজঘরে ফিরতেই পরপর উইকেট পড়ে ইংল্যান্ডের। ১৭৪ রানে ৪ উইকেট থেকে নিমেষে ১৭৭ রানে ৭উইকেট হয়ে যায়। বাকি সময়টা ছিল ইংল্যান্ডের পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর লড়াই। শেষ পর্যন্ত তা ১০০ রানে গিয়ে ঠেকলো। ৪০.২ ওভারে ইংল্যান্ডের ইনিংস ফুরিয়ে যায় ৩১১ রানে। ভারতের হয়ে তিনটি উইকেট নেন অম্বরীশ। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন দীপেন দেবেন্দ্রন, কনিষ্ক চৌহান। একটি করে উইকেট নিয়েছেন খিলান প্যাটেল ও আয়ুষ মাত্রে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *