কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ের উৎসে আবারও কর্পোরেট করের তুলনায় ব্যক্তিগত আয়করের ভাগ বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে আয়ে কর্পোরেট করের অংশ ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে আয়করের অংশ ২১ শতাংশ। গত এক দশকে মোদি সরকারের কর্পোরেট বান্ধব নীতি এবারের বাজেটেও প্রতিফলিত হয়েছে।
২০১৯-এ সরকার কর্পোরেট করের হার কমিয়ে ২২ শতাংশ এবং নতুন সংস্থা (স্টার্টআপ)-র জন্য তা ১৫ শতাংশ করা হয়েছিল। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের 'বাজেট অ্যাট এ গ্ল্যান্স' নথি অনুযায়ী, কর্পোরেট কর বাবদ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা যেখানে ১২.৩১ লক্ষ কোটি টাকা ধরা হয়েছে, সেখানে ব্যক্তিগত আয়কর থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা।
এর তুলনায়, ২০২৫-২৬'র বাজেট বরাদ্দে কর্পোরেট কর ছিল ১০.৮২ লক্ষ কোটি টাকা এবং আয়কর ছিল ১৪.৩৮ লক্ষ কোটি টাকা। সংশোধিত হিসেবে সেই বছর কর্পোরেট কর দাঁড়ায় ১১.০৯ লক্ষ কোটি টাকা এবং আয়কর ছিল ১৩.১২ লক্ষ কোটি টাকা। পি আর এস লেজিসলেটিভ রিসার্চের বিশ্লেষণ বলছে, ২০০০-'০১ থেকে ২০২৩-২৪'র মধ্যে কর্পোরেট কর বছরে ১৫ শতাংশ হারে এবং আয়কর ১৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মোট প্রত্যক্ষ করের মধ্যে আয়করের অবদান সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। ২০০০-'০১ সালে মোট প্রত্যক্ষ করের ৪৭ শতাংশ ছিল আয়কর, যা ২০২৩-'২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ শতাংশ।
২০২৬-২৭'র কেন্দ্রীয় বাজেটে সরকারের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হলো ঋণ ও দায় (২৪ শতাংশ), যার পরেই রয়েছে আয়কর (২১ শতাংশ)। অন্যান্য উৎস কর্পোরেট কর (১৮ শতাংশ), জি এস টি ও অন্যান্য কর (১৫ শতাংশ), কর বহির্ভূত রাজস্ব (১০ শতাংশ), কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক (৬ শতাংশ), সীমা শুল্ক (৪ শতাংশ) এবং ঋণ বহির্ভূত মূলধনী প্রাপ্তি (২শতাংশ)।
অন্যদিকে, সরকারের ব্যয়ের সিংহভাগ (২২ শতাংশ) যায় রাজ্যগুলির করের অংশ মেটাতে। এরপর রয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধ (২০ শতাংশ), কেন্দ্রীয় খাতের প্রকল্প (১৭ শতাংশ), প্রতিরক্ষা (১১ শতাংশ), অর্থ কমিশন ও অন্যান্য হস্তান্তর (৭ শতাংশ), এবং অন্যান্য ব্যয় (৭ শতাংশ)। ভরতুকি বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ শতাংশ।
গত দশকে ভারতের কর ব্যবস্থায় কর্পোরেট কর ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২ শতাংশ করা হলেও, মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জি ডি পি'তে এর অবদান ৩.৫ শতাংশ থেকে কমে ২.৮ শতাংশ) হয়েছে। বিপরীতে, গত পাঁচ বছরে জি এস টি রাজস্ব ৪.৪ লক্ষ কোটি টাকা থেকে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২২.০৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যার বার্ষিক বৃদ্ধির হার ৯.৪।

