রামধনু ।। ৮ আগস্ট
রাশিয়া থেকে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেকে দিয়ে একটি বিল অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। এই মার্কিন পদক্ষেপের ফলে ভারত, চীনসহ রাশিয়ার তেল–গ্যাসের প্রধান ক্রেতা দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হলো।
গত ১১ জুলাই মারা যাওয়া ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক ও রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে এই বিলের নামকরণ করা হয়েছে। সিনেটে বিলটি ৮৬–১১ ভোটে পাস হয়। সিনেটে লিন্ডসে গ্রাহামের স্থলাভিষিক্ত হওয়া তাঁর বোন ডার্লিন গ্রাহাম বলেন, বিলটি ‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঠিক দুর্বল জায়গায় আঘাত করবে।’
সিনেটে ডেমোক্র্যাট সদস্য রিচার্ড ব্লুমেনথাল গ্রাহামের সঙ্গে এক বছরের বেশি সময় ধরে এই বিল পাসের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের মানুষ ‘একা নন।’
ভোটের পর এই সিনেটর বলেন, ‘আজ প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেন থেকে এবং পুতিন মস্কো থেকে এটি দেখছেন। আমি ভাবতে পছন্দ করি যে লিন্ডসে গ্রাহামও ওপর থেকে এটি দেখছেন।’
নিজের বক্তব্য আরও স্পষ্ট করে ব্লুমেনথাল বলেন, ‘আজ আমরা ইউক্রেনের মানুষকে বলছি, আপনারা একা নন। আর ভ্লাদিমির পুতিনকে বলছি, আপনি ইউক্রেন জয় করতে পারবেন না।’
বিলটি এখন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদনের জন্য যাবে। ৩১ আগস্ট প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন আবার শুরু হলে বিলটি নিয়ে সেখানে আলোচনা হবে।
রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক দলের সমর্থন পাওয়া এই বিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে রাশিয়ার তেল বা গ্যাস কেনে, বিশ্বের এমন শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় ভারত ও চীন রয়েছে। ভারত ও চীনের পাশাপাশি বর্তমানে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির শীর্ষ পাঁচটি দেশের তালিকায় রয়েছে আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া।
বিলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন, দেশটির জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি প্রকল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে যেসব দেশ রাশিয়া থেকে তাদের মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং সেই আমদানি কমানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে এই বিলের আওতায় ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
মস্কো যেসব পুরোনো তেলবাহী জাহাজ পতাকা পাল্টে ব্যবহার করছে, সেগুলোও বিলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব জাহাজ ব্যবহার করে রাশিয়া তেল ও জ্বালানি থেকে আয় করা অর্থের ওপর বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

Isss
yes