রামধনু


খবর-সাহিত্য-জীবনধারা

Subscribe

অদম্য লড়াইয়ের পর অস্মিতা দে-র সোনা জয়

রামধনু ।। ৮ আগস্ট

এ যেন রূপকথার গল্পের বাস্তব চিত্র। ভিটেমাটিহীন হয়েও অস্মিতা আজ সোনার মেয়ে। কমনওয়েলথ গেমসে জুডোতে স্বর্ণপদক জয়ের পর মেয়ের সাফল্যে মা দারুণ খুশি। তার সাফল্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে বিলোনীয়া থেকে সারা ভারতে। কষ্টের দিনগুলোর স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি অস্মিতার মা।

বিলোনীয়া মহকুমা সদর থেকে ৬-৭ কিলোমিটার দূরের প্রান্তিক গ্রাম দক্ষিণ সোনাইছড়ি। গ্রামের অর্জুন দে ও মুন্না দে'র দরিদ্র কুটিরেই জন্ম হয় তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ের। অর্জুন দে ছিলেন সামান্য সাইকেল মেকানিক। ক্ষুদ্র আয়ে সংসার চালানোই ছিল রীতিমতো চ্যালেঞ্জ। তা সত্ত্বেও তিন সন্তানের লেখাপড়ায় সাধ আর সাধ্যের টানাপোড়েনের মধ্যেও বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি তিনি।

মা মুন্না দে ছিলেন খো খো ও কাবাডি খেলোয়াড়। যদিও খেলায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তেমন পাননি। ছোট মেয়ে অস্মিতা সোনাইছড়ি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই খেলাধুলার প্রতি তার আকর্ষণ বাড়তে থাকে। প্রতিদিন নিয়ম করে বিলোনীয়া বিদ্যাপীঠ স্কুলে জুডো খেলা দেখতে যেত ছোট্ট অস্মিতা। খেলা দেখতে দেখতেই একসময় জুডো গ্রাউন্ডে নেমে পড়ে। শিক্ষিকার হাত ধরেই শুরু হয় তার জুডো প্রশিক্ষণ।

কোচদের কথায়, অস্মিতার দক্ষতা ছিল অসাধারণ। অল্প সময়ের মধ্যেই সে খেলার কৌশল আয়ত্ত করতে শুরু করে এবং দ্রুত প্রতিযোগিতার আসরে নেমে পড়ে।

ছোটবেলা থেকেই অস্মিতা রাজ্য ও জাতীয় স্তরের জুডো প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করে গোটা রাজ্যের নজর কাড়ে। ২০১৪ সালে সে ত্রিপুরা স্পোর্টস স্কুলে সুযোগ পায়। এরই মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে, ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া এবং পরিবার চালানোর তাগিদে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও বিক্রি করে দিতে হয় অর্জুন দে'কে। সাইকেল মেকানিকের কাজ করেই ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করে পরিবারটি।

ত্রিপুরা স্পোর্টস স্কুলে থাকার সময়ে অস্মিতা রাজ্য ও জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় কখনও স্বর্ণ, কখনও রৌপ্য, কখনও ব্রোঞ্জ পদক জিততে থাকে।

পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা কিছুটা কাটানোর জন্য ২০০২ সালে দক্ষিণ সোনাইছড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে অস্মিতার মা মুন্না দে'কে স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে অস্থায়ী কাজ দেওয়া হয়। জাতীয় স্তরে সাফল্যের পর নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে ২০১৮ সালে ভোপালে স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার কেন্দ্রে সুযোগ পায় অস্মিতা। সেখানে এশপাল সোলাংকির তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের প্রতিভাকে আরও %E

Comments are closed!