রামধনু

খবর - সাহিত্য - জীবনধারা
Subscribe
ভুল করে দেওয়া টাকা নেয়া যাবে না
১ ফেব্রুয়ারি :  ভুল করে দেওয়া টাকা নেয়া যাবে না। ত্রিপুরা উচ্চ আদালতের দেয়া এই রায় লাঘু হবে সরকারেরর তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য। অবসরের পর সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের কাছ থেকে কর্মজীবনে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। বেতনক্রম সংশোধনীর সময় ত্রুটিপূর্ণ বেতনক্রম নির্ধারণের জন্য প্রদত্ত অর্থ ফেরতযোগ্য এই মর্মে মুচলেকা থাকা সত্ত্বেও ফেরত নেয়া যাবে না এই টাকা। একক বিচারপতির প্রদত্ত গুচ্ছ রায়ের বিরুদ্ধে ত্রিপুরা সরকারের দায়ের করা পাঁচটি রিট আপিল খারিজ করে ৩১ জানুয়ারি (২০২৬) উচ্চ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ উপরোক্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছে। কৃষি দপ্তরের অবসর প্রাপ্ত কর্মচারীদের দায়ের করা রিট মামলাসমূহে উচ্চ আদালতের বিচারপতি এস দত্ত পুরকায়স্থ অবসরের পর অবসরকালীন প্রাপ্য থেকে চাকরিকালীন দেয়া অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সরকারি আদেশনামা খারিজ করে দেন। রাজ্য সরকারের বক্তব্য ছিল, ২০০৯ এ বেতনক্রম সংশোধনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বেতনক্রম নির্ধারণে ভুল হয়েছিল। ফলে তারা প্রাপ্য বেতন থেকে অতিরিক্ত অর্থ পেয়েছেন। অবসরের পর অতিরিক্ত অর্থ প্রদান নির্ধারিত হওয়া পেনশন ও অন্যান্য প্রাপ্য থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়যোগ্য। কেন না, বেতনক্রম সংশোধনের সময় প্রত্যেক কর্মচারীকে মুচলেকা দিতে হয়। ভুল বেতনক্রম নির্ধারণের ফলে প্রাপ্য অর্থ পরবর্তী সময়ে ফেরতযোগ্য। একক বিচারপতির রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের রিট আপীলসমূহের শুনানি গ্রহণ করেন প্রধান বিচারপতি এস এস রামচন্দ্র রাও ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ পালিতের ডিভিশন বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে প্রদত্ত একক বিচারপতির রায়কে বহাল রেখেছে ডিভিশন বেঞ্চ। যেহেতু অতিরিক্ত অর্থ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা কোনরকম ছল, চাতুরি, প্রতারণা ও বিভ্রান্তির আশ্রয় নেয়নি - তাই অতিরিক্ত অর্থ প্রাপ্তির পাঁচ বছরের ব্যবধানে অবসরের পর অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে অসমীচীন, অন্যায্য ও অযৌক্তিক বলেছে ডিভিশন বেঞ্চ। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা কষ্টকর পরিস্থিতির শিকার হবেন। উল্লেখ্য, বেতনক্রম সংশোধনের সময় প্রত্যেক কর্মচারীকে মুচলেকা প্রদান করে ঘোষণা করতে হয় - ত্রুটি পূর্ণ বেতনক্রম সংশোধনের ফলে প্রাপ্য অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য থাকবেন। এই মুচলেকাকে ভিত্তি করেই বেতনক্রম সংশোধনের দীর্ঘ ব্যবধানে অবসরের পর ফেরত দিতে বলা হয়। না দিলে পেনশন ও অন্যান্য প্রাপ্য আটকে রাখা হয়। অথবা অতিরিক্ত অর্থ কেটে রাখা হয়। একক বিচারপতির রায়সমূহকে বহাল রেখে ডিভিশন বেঞ্চ আপিল মামলাগুলো খারিজ করায় অবসরের পর অতিরিক্ত বেতনভাতা আদায় করা থেকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিষ্কৃতি মিলবে। কর্মজীবনে প্রাপ্য বেতনভাতা সঠিকভাবে প্রদত্ত হয়েছে ধরে নিয়েই সরল বিশ্বাসে খরচ করেন কর্মচারীরা। আচমকা দীর্ঘ ব্যবধানে অবসরের পর ভুলক্রমে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হয়েছে বলে আদায় প্রক্রিয়া প্রকৃতপক্ষেই চরমভাবে অসুবিধাজনক। কৃষি দপ্তরের অবসর প্রাপ্তদের পক্ষে রিট মামলাগুলো ও আপিল মামলাগুলো লড়েছেন বরিষ্ঠ আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মণ, আইনজীবী সমরজিৎ ভট্টাচার্য ও কৌশিক নাথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *